Shubman Gill মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই অধিনায়ক হিসেবে ব্যাটিং দক্ষতার নজিরবিহীন প্রদর্শন করে গড়লেন একজন ভারতীয় অধিনায়কের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর।
টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাস গড়লেন Shubman Gill

বুধবার Shubman Gill টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম দুই ম্যাচে শতরান করা চতুর্থ ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে নাম লেখান—তার আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন বিজয় হাজারে, সুনীল গাভাসকর ও বিরাট কোহলি। আর বৃহস্পতিবার, মাত্র নিজের দ্বিতীয় টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে খেলতে নেমেই গড়লেন ভারতের টেস্ট ইতিহাসে অধিনায়কের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই এক অবিশ্বাস্য সূচনা।
হাজারে, গাভাসকর ও কোহলি যখন এই কীর্তিগুলি গড়েছিলেন, তারা আগে থেকেই দলের প্রধান ব্যাটার ছিলেন। কোহলি তো অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেডে দুটি শতরান করেছিলেন। অথচ গিলকে ঘিরে এই সিরিজের শুরুতেই সন্দেহ ছিল—এই নবগঠিত ভারতীয় দলের সেরা ব্যাটার কি আদৌ তিনিই?
Shubman Gill এই সিরিজে প্রবেশ করেছিলেন একরকম অনিশ্চয়তার মধ্যে—যদিও তা সাময়িক এবং অনেকটাই অযৌক্তিক ছিল। উপমহাদেশের বাইরে তার রেকর্ড দুর্বল বলে মনে হচ্ছিল, যা তার টেকনিক ও ব্যাটিংয়ের পরিপূর্ণতা বিবেচনায় বেশ বিস্ময়কর। তাই এই সময় অধিনায়ক গিলের পাশে ব্যাটার গিলকে জ্বলে ওঠা ছিল জরুরি, এবং সেটাই তিনি করেছেন দারুণভাবে।
লিডসে করা ১৪৭ রানের ইনিংস যদি তার সামর্থ্য দেখিয়ে থাকে, তাহলে এজবাস্টনে বৃহস্পতিবার করা ২৬৯ রানের অনবদ্য ইনিংস সন্দেহের শেষটুকুও দূর করে দিয়েছে। আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে খেলে প্রায় নিখুঁত এই ইনিংসে তিনি আত্মবিশ্বাস, নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক দৃঢ়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ভারত যখন কোহলি-রোহিত-রাহানে-পুজারার অধ্যায়ের পর নতুন এক পথচলার সূচনায়, তখন Shubman Gill এমন উত্থান নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের জন্য দারুণ এক বার্তা। নেতৃত্বের এই সূচনায় Shubman Gill যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করছেন, তা ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে আশাবাদী করে তোলে।
অধিনায়কত্বের ধরনে যেন অনেকটাই দ্রাবিড় ও কুম্বলের মতো

একটি ক্ষেত্রে সাফল্য আরেকটিতে প্রভাব ফেলবে—এটা খুবই স্বাভাবিক। তাই যদি অধিনায়ক গিল এখন মাঠে আরও দৃঢ়ভাবে নেতৃত্ব দেন, বা সহখেলোয়াড়দের কাছ থেকে আরও উৎকর্ষ দাবি করেন, সেটাকে অবাক হওয়ার মতো কিছু মনে করার কারণ নেই। তিনি হয়তো তা খুব জোরগলায় প্রকাশ করবেন না, কারণ সেটা তার স্বভাব নয়। তবে তার নরমভাবাপন্ন আচরণকে যেন কেউ দুর্বলতা বা আবেগহীনতা ভেবে ভুল না করেন।
প্রতিটি মানুষ আলাদা, এবং আগ্রাসনের একক কোনো ছাঁচ নেই—যেমন রাহুল দ্রাবিড় বা অনিল কুম্বলে কখনও সোজাসাপটা আগ্রাসন দেখাননি, তবুও তারা সৌরভ গাঙ্গুলি বা বিরাট কোহলির মতোই জয়ের জন্য অটুট ছিলেন। সম্ভবত গিল সেই দ্রাবিড়-কুম্বলে ঘরানার নেতৃত্বে পড়েন, যাঁরা নীরব অথচ কার্যকর।
এই দুটি অসাধারণ ইনিংস—১৪৭ ও ২৬৯—ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যত বদলে দেবে কিনা, তা সময়ই বলবে। তবে গিলের নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গিকে এটি যে বদলে দেবে, এবং তাকে এই বিশ্বাস দেবে যে এখন তিনিই এই দলের নেতা, এবং আর কোনো সংশয়ের জায়গা নেই—এটা নিশ্চিত। ড্রেসিংরুমে গিলের প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা ছিল, এখন তার চারপাশে একটি “অরা” বা প্রভাব তৈরি হয়েছে। এখন তার কথা আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
গৌতম গম্ভীরের ছায়াতলে পড়ে গিল নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি না—এই প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই ছিল। শেষ কথা কার, কে আসল সিদ্ধান্ত নেবে—এসব প্রশ্নও ঘুরছিল। কিন্তু গিল তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। তিনি যদি প্রথম তিন ইনিংসে ০, ৪৬ আর ১২ করতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি আলাদা হতো, কারণ ক্রিকেটে ধারণাই অনেক সময় বাস্তবতাকে প্রভাবিত করে।
ভারতের দুই কিংবদন্তি ব্যাটারকে (রাহানে ও পুজারাকে) অনুসরণ করে ৪ নম্বর স্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা গিলের আত্মবিশ্বাস, চিন্তাভাবনা ও আত্মসম্মানে দারুণ প্রভাব ফেলবে। “গিল’স বয়েজ”—এই বাক্যটি আজকে শুনতে যেমন সুন্দর, আগামীতেও তা হতে পারে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম চেনা পরিচয়। যদি এজবাস্টনে পরের তিন দিনে তার অধিনায়কত্বে আসে প্রথম টেস্ট জয়, তবে সেটা হবে শুরু থেকেই এক স্বর্ণালি অধ্যায়।
দেখতে থাকুন, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের পাতা এখন গিলের হাতে।